এক টুকরো চাঁদ

 

 


 


নীরা আর রোহান ছোটবেলা থেকেই বন্ধু। তাদের প্রগাঢ় সম্পর্কটি ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে প্রেমে পরিণত হয়েছিল। একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা, কিন্তু কখনো নিজেদের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারেনি। রোহান যখন কলেজে ভর্তি হয়, তখন নীরা তাকে অনেকটা দূর থেকেই ভালোবাসে, কিন্তু সে কখনো বলতে পারিনি।

একদিন, কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে রোহান নীরার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, "নীরা, তোমার হাসি আমার জন্য পৃথিবীজুড়ে থাকা এক টুকরো চাঁদের মতো।" নীরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়, কিছু বলতে পারেনি, কারণ তার হৃদয়ে এতটাই গোপন ভালোবাসা ছিল যে তা প্রকাশ করার সাহস পায়নি।

কিন্তু একদিন, রোহানকে একটি বিশেষ দিনে সারপ্রাইজ দিতে ঠিক করল নীরা। সে রোহানকে তার প্রিয় জঙ্গলপার্কে নিয়ে গেল, যেখানে তাদের একসাথে অনেক স্মৃতি ছিল। সেখানে পৌঁছে, নীরা এক টুকরো চাঁদের প্রতিকৃতির সঙ্গে একটি ছোট চিঠি দিলো রোহানকে। চিঠির মধ্যে ছিল, "তুমি কি জানো রোহান, আমার হৃদয়েও একটি চাঁদ রয়েছে, আর সেটি তোমার জন্যই জ্বলে।"

 

রোহান চমকে উঠল। দীর্ঘ সময় ধরে তার মনেই ছিল যে নীরা তাকে ভালোবাসে, তবে কখনো তা প্রকাশ করেনি। সে বুঝতে পারল, সে নিজেই ভুল বুঝেছিল। তার নিজের অনুভূতিও ঠিক তেমনি ছিল।

রোহান নীরাকে চোখে চোখ রেখে বলল, "তুমি যদি আমাকে একটি জীবন উপহার দাও, আমি সেই জীবনটা তোমার সঙ্গে কাটাতে চাই।" নীরা তার উত্তরে শুধু একটি চুম্বন দিয়েছিল। তাদের দুজনের মধ্যে তখন এক অজানা সুর বাজতে থাকলো, যেন পৃথিবীটাই থেমে গেছে, আর শুধু তারা দুটি ছিল।

সে দিনের পর থেকে, নীরা আর রোহান একে অপরকে ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা জানতো, জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, একে অপরের পাশে থাকলে সবকিছুই সহজ হয়ে যাবে।  

এভাবে তাদের ভালোবাসা যুগযুগান্তরের মতো অটুট হয়ে থাকে, যেন এক টুকরো চাঁদ, যা কোনোদিনও অন্ধকারে হারায় না।

 




Post a Comment

1 Comments